Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts
Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts

Thursday, June 10, 2021

সত্যের পরাজয় [ছোটো ছোটো চিন্তারা]

  • 10. June.21
মুসলমানেরা যখন জাগতিক জ্ঞান ও উপায় উপকরণে গরীব আর তাওয়াক্কুলে খোদায় ছিলো ধনী, তখন তারা ছিলো দুনিয়ার অজেয় পরাশক্তি জাতী।
আবার, যখনই তারা জাগতিক জ্ঞান ও উপায় উপকরণে ধনী হয়ে সেসবের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লো, এবং মৃত্যুকে ভয় করতে শুরু করলো,
তখন থেকেই তাদের গলায় গোলামির শিকলে লাগতে শুরু হয়।।
শত্রুর দেওয়া ফর্মুলায় মুসলমানেরা জ্ঞানবিজ্ঞানে তো বেশ এগিয়েছে তাতে কী মুক্তি বা বিজয় পেয়েছে, নাকি গোলামির ইতিহাস দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতরই হচ্ছে!

আবার কেউ কেউ দ্বীনের জন্য জাগতিক যশখ্যাতি আর অর্থবিত্তের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে এবং যারা এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে তাদেরকে নিন্দা করছে। আসলে এই লোকগুলো নিজেরাই দ্বীনের নামে নিজেদের ধোকা দিচ্ছে এবং শয়তানের জিঞ্জিরে আবদ্ধ হচ্ছে টের পাচ্ছেনা। এজন্য আমি বলি দুনিয়ার অর্থবিত্ত, যশ-খ্যাতি, বড়ো বড়ো ডিগ্রি অর্জনের প্রতিযোগিতা পরকালীন সফলতার সামনে একেকটা দেয়াল।
আবুদ্দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার দামেশকের জামে মসজিদের মিম্বারে দাঁড়িয়ে বললেনঃ ‘হে দামেশকবাসীগণ! তোমরা কি একজন সহানুভূতিশীল, হিতাকাঙ্খী ভাইয়ের কথা শুনবে? শুনে নাও, তোমাদের পূর্বে অনেক বিশিষ্ট লোক অতিক্রান্ত হয়েছে। তারা প্রচুর ধন-সম্পদ একত্রিত করেছিল, সুউচ্চ দালান-কোঠা নির্মাণ করেছিল এবং সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা তৈরী করেছিল, আজ তারা সবাই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তাদের গৃহগুলোই তাদের কবর হয়েছে এবং তাদের দীর্ঘ আশা ধোঁকা ও প্রতারণায় পর্যবসিত হয়েছে। ‘আদ জাতি তোমাদের নিকটেই ছিল। তারা ধন, জন, অস্ত্রশস্ত্র ও অশ্বাদি দ্বারা দেশকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছিল। আজ এমন কেউ আছে কি, যে তাদের উত্তরাধিকার আমার কাছ থেকে দু’দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় করতে সম্মত হবে?’ [ইবনুল মুবারক আয-যুহদ ৮৪৭; কুরতুবী] হাসান বসরী রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ ‘যে ব্যক্তি জীবদ্দশায় দীর্ঘ আকাঙ্খার জাল তৈরী করে, তার আমল অবশ্যই খারাপ হয়ে যায়।‘ [কুরতুবী] অর্থাৎ মানুষের আশা-আকাংখা, লোভ-লালসা এতবেশী যে, সে তার পিছনে এতই মগ্ন থাকে যে, তার জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে অথচ তার আশা পুরোয় না। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্দর উদাহরণ পেশ করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার কোন বিশিষ্ট একটি ঘর আঁকলেন। তারপর তার মধ্যভাগ থেকে একটি রেখা এঁকে তা বৃত্তের বাইরে নিয়ে গেলেন। তারপর এ রেখার বাইরের অংশে ছোট ছোট কতগুলো রেখা আড়াআড়ি ভাবে মাঝ বরাবর আঁকলেন এবং বললেনঃ “এটা (মধ্যবিন্দু) হলো মানুষ, আর এর চারপাশে যে রেখা তাকে ঘিরে আছে দেখা যাচ্ছে সেটা তার আয়ু। আর যে রেখা বাইরের দিকে চলে গেছে সেটা তার আশা-আকাংখা। আর এই যে, ছোট ছোট রেখাগুলো আছে সেগুলো তার বিপদাপদ বালা-মুসিবত। যদি কোন একটি থেকে বেঁচে যায় অপরটি তাকে জাপটে ধরে। তারপর এটা থেকে বেঁচে গেলেও অপরটি তাকে ঠিকই ধরে ফেলে। [বুখারীঃ ৬৪১৭]

Monday, February 20, 2017

সন্ত্রাসী কারা ?



ইসলামের দুশমনরা মুসলিমদের টেরোরিষ্ট প্রমানে প্রানান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আমি অমুসলিমদের নিজেদের চেহারা আয়নায় নিখুত ভাবে দেখার জন্য বিনীত তাদের অনুরোধ করবো।
রাশিয়ায় কমুনিষ্ঠ বিপ্লবের নামে ২কোটি,চীনে৬কোটি মানুষ কারা হত্যা করেছে?
কিউবা পূর্ব ইউরোপে লক্ষ লক্ষ মানুষকে কারা হত্যা করেছে?
কারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছে ?
মুসলিম রা ??
কারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছে?
মুসলিম রা ??
অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ২০মিলিয়ন আদিম অধিবাসীদের কে কারা মেরেছিল ?
মুসলিম রা ??
নাগাসাকি, হিরশিমায় পারমানবিক বোমা কারা ফেলেছিল ? সাউথ আমেরিকায় ৫০ মিলিয়ন ইন্ডিয়ান দের কারা মেরেছিল? প্রায় ১৮০ মিলিয়ন আফ্রিকার মানুষ কে কারা ক্রীতদাস হিসেবে নিয়েছিল যাদের মাঝে ৮৮% মারা গিয়েছে আর অ্যাটল্যান্টিক মহাসাগরে নিক্ষেপ করা হয়েছিল ?
মায়ানমারে হাজার হাজার মুসলিমকে নিষ্ঠুর কায়দায় কারা হত্যা করছে কারা?
মুসলিম রা ??
নাহ!
একটাও মুসলিম রা করেনি !
আমাদর ভাল করে জানা দরকার টেরোরিস্ট শব্দটার মানে কি?! নন মুসলিম যদি কোনও অপরাধ করে তাহলে সেটা ক্রাইম হয়। আর কোনও মুসলিম যদি একই অপরাধটা করে তাহলে তখন সে টেরারিস্ট হয়ে যায় !
জবাবটি ছিল এক জার্মানি পণ্ডিত এর যখন তাঁকে সন্ত্রাসবাদ ও ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল ! সাথে সাথে তিনি চমৎকার উত্তর ও দিয়ে দিয়েছেন! যারা অন্তর থেকে ঈমান এনেছে, যারা আল্লাহ্‌কে ভয় করে, পরকালকে বিশ্বাস করে, তারা কখনও টেরারিস্ট হতে পারেনা !
যারা নিজেকে মুসলিম দাবী করে এবং টেরারিস্ট এর মতো কাজ করে, অন্যায় ছাড়া কারো জীবন নিয়ে নেয় তারা মুসলিম না, শুধু মাত্র ইসলামের নাম ব্যবহার করছে !ইসলাম মানুষ কে বাচাতে এসেছে হত্যা করতে নয়।যুদ্ধের ময়দান ছাড়া,গুপ্ত হত্যা,আত্মঘাতি হামলা করে যারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার চেষ্ঠা করছে তারা ইসলামের দুশমনদের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে।
৫৪টি স্বাধীন মুসলিম দেশের সরকার প্রধানদের উচিত যেখানেই মুসলিম হত্যা হোক এক যোগে প্রতিবাদ করা।কোন অমুসলিম মুসলিম দেশে নিহত হলে পশ্চিমারা একযোগে প্রতিবাদ জানায়,পরামর্শ খয়রাত করে।

Thursday, February 16, 2017

মুসলিম শাসক কেমন হবেন - গাজী মুহাম্মদ শওকত আলী


বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, ‘শাসন করা তারই সাঝে সোহাগ করে যে’। সূরা আল মায়েদার ৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের জীবন বিধান পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের জন্য আমার নিয়ামতও পূর্ণ করে দিলাম, আর তোমাদের জন্য জীবন বিধান হিসেবে ইসলামকে মনোনীত করলাম’। সূরা আল ইমরানের ১৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালার নিকট (মানুষের জন্য) ইসলামই একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবনব্যবস্থা।’ তাই মুসলমান শাসকের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সূরা আল হজের ৪১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করছেন, ‘আমি এ জনপদে যদি (মুসলমান দাবিদার) কাউকে (রাজনৈতিকভাবে) প্রতিষ্ঠা দান করি (বা কোন মুসলমানকে রাষ্ট্র ক্ষমতা দান করি) তাহলে তার (প্রথম) দায়িত্ব হলো সালাত প্রতিষ্ঠা করবে, (দ্বিতীয়ত) জাকাত আদায় করবে, আর (তৃতীয়ত) জনগণকে সৎকাজের আদেশ দেবে ও অন্যায় আর অসৎকাজ থেকে বিরত রাখবে (অর্থাৎ ন্যায়বিচার, ইনসাফ ও ইহসান প্রতিষ্ঠা করবে), তবে সব কাজের চূড়ান্ত পরিণতি একান্তভাবে আল্লাহ তায়ালারই এখতিয়ারভুক্ত’। রাসূল মুহাম্মদ সা: মদিনায় হিজরতের পর ইসলামি রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন হয়। সেখানে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতা পাওয়ার পর ন্যায়বিচার, ইনসাফ ও ইহসান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অতঃপর খোলাফায়ে রাশেদীনের শাসনামলকে পৃথিবীর ইতিহাসে স্বর্ণ যুগ বলে অবিহিত করা হয়েছে।
সূরা আন নিসার ১০৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা রাসূল সা:-এর উদ্দেশে বলছেন, ‘অবশ্যই আমি সত্য দ্বীনসহ (মানুষের জন্য জীবনব্যবস্থা) মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাজিল করেছি, যাতে করে আল্লাহ তায়ালা আপনাকে যে (জ্ঞানের আলো) দেখিয়েছেন তার আলোকে আপনি মানুষের মধ্যে বিচার ফয়সালা করতে পারেন; (তবে বিচার ফয়সালার ক্ষেত্রে) আপনি কখনো বিশ^াস ঘাতকদের পক্ষ অবলম্বন করবেন না। সূরা আল মায়েদার ৪৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা (রাসূল সা:-কে নির্দেশ করছেন, ‘আর আপনার ওপর আল্লাহ তায়ালা যে আইন-কানুন নাজিল করেছেন আপনি তারই ভিত্তিতে তাদের (জনগণের) মধ্যে বিচার ফয়সালা করুন এবং কখনো তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না আর তাদের থেকে সতর্র্ক থাকুন, যা আপনার ওপর নাজিল হয়েছে তার কোনো বিষয়ে যেন তারা (জনগণ) কখনো আপনাকে ফেতনায় ফেলতে না পারে’। সূরা আল মায়েদার ৫০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা (রাসূল সা:-এর উদ্দেশ্য) প্রশ্ন রাখছেন, ‘তবে তারা (জনগণ) কি আবার-জাহেলিয়াতের বিচারব্যবস্থা তালাশ করছে? অথচ যারা আল্লাহ তায়ালার ওপর দৃঢ়ভাবে বিশ^াস করে, তাদের কাছে আল্লাহ তায়ালার চেয়ে উত্তম বিচারক আর কে হতে পারেন?
হত্যা ও সন্ত্রাসের বিচার সম্পর্কে সূরা আল মায়েদার ৩২ ও ৩৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করছেন, ‘আমি বনী ইসরাঈলদের জন্য বিধান জারি করেছিলাম, ‘কেউ যদি পৃথিবীতে কাউকে অনর্থক হত্যা করে বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করে, সে যেন গোটা মানব জাতিকেই হত্যা করলো, আবার যদি কেউ কারো প্রাণ রক্ষা করে সে যেন গোটা মানব জাতিরই প্রাণ রক্ষা করলো, এদের কাছে আমার রসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছিল তার পরও তারা পৃথিবীতে সীমালঙ্ঘনকারী হিসেবেই রয়ে গেল। যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে (অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার আইন আর রাসূল সা:-এর বিচার ফয়সালা অমান্য করে) পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাহলে তাদের জন্য নির্দিষ্ট শাস্তি হচ্ছে, ‘হত্যার বিনিময়ে হত্যা’ বা তাদেরকে শূলবিদ্ধ করা অথবা উল্টোদিক থেকে তাদের হাত-পা কেটে ফেলা, কিংবা দেশ থেকে নির্বাসিত করা, এই অপমানজনক শাস্তি তাদের দুনিয়ার জীবনের জন্য, তা ছাড়াও আখেরাতে তাদের জন্য আছে ভয়াবহ শাস্তি।
বিচারব্যবস্থা ও বিচারক সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা সূরা আন নিসার ৬৫ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করছেন, ‘না, (হে নবী!) আপনার মালিকের শপথ, এরা কিছুতেই ঈমানদার হতে পারে না, যতক্ষণ না তারা তাদের যাবতীয় মতোবিরোধের (বিচার) ফয়সালার ব্যাপারে আপনাকে (শর্তহীনভাবে) বিচারক মেনে নেবে, অতঃপর আপনি যে বিচার ফয়সালা দেবেন সে ব্যাপারে তাদের মনে আর কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ থাকবে না, বরং আপনার সিদ্ধান্ত তারা সর্বান্তকরণে মেনে নেবে’। রাষ্ট্র শাসকের দায়িত্ব হচ্ছে ন্যায়বিচার করা আর জনগণের দায়িত্ব হচ্ছে শাসকের বিচার ফয়সালা মেনে নেয়া। বিচারের ক্ষেত্রে শাসক জুলুম করলে রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে, এ কথা শাসককে অবশ্যই মনে রাখতে হবে।
ইসলামি শরিয়তের আইনের তিন প্রকার প্রয়োগ আছে। যেমন, (১) ‘হদ্দ’ এ আইনে যিনা ব্যভিচার, মদ্যপান, চুরি, ডাকাতি, বিদ্রোহ ও ধর্মত্যাগ সক্রান্ত অপরাধের বিচার করা হয়, (২) ‘কিসাস ও দিয়াত’ এ আইনে হত্যার জন্য মৃত্যুদণ্ড ও রক্তপণ আদায়সক্রান্ত বিচার করা হয়, (৩) ‘তাযীর’ এ আইনে শরিয়তের কোনো শাস্তি নির্ধারিত নয়, যা সরকার বা সরকারের প্রতিনিধি বা বিচারকের বিবেচনার ওপর ন্যস্ত এমন সব বিচার করা হয়। 
চুরির বিচার সম্পর্কে সূরা আল মায়েদার ৩৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিচ্ছেন, ‘নারী-পুরুষ এদের মধ্যে যে কেউ-ই চুরি করবে, তাদের হাত দুটো কেটে ফেলো, এটা তাদেরই কর্মফল এবং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নির্ধারিত দণ্ড, আল্লাহ তায়ালা মহাশক্তিশালী ও প্রবল প্রজ্ঞাময়।’ 
হত্যার বিচার হত্যা, চোরের বিচার হাত কাটা আর যিনার বিচার পাথর মেরে হত্যা তখনই হবে, যখন কুরআন ও সুন্নাহর আইন দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। তখন অবশ্যই রাষ্ট্র, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিরাপত্তা এই ছয়টি মানবীয় মৌলিক চাহিদা পূরণ বা মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করতে পারবে। তার পরও যদি কোনো ব্যক্তি কাউকে হত্যা করল, চুরি করল বা যিনা করল আর হাতেনাতে ধরা পরার সাথে সাথে তাকে হত্যা করা, হাত কেটে দেয়া আর পাথর মেরে হত্যা করা যাবে না। মনে করুন চুরির বিচার; প্রথমত, দেখতে হবে চোর নারী বা পুরুষ সে বালেগ কি না। দ্বিতীয়ত, তার চুরি করার কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। তৃতীয়ত, আটটি শর্ত বিদ্যমান থাকলে চুরি বলে গণ্য হবে, (১) গোপনে (চুরির বস্তু বা মাল) হস্তগত করলে, (২) হস্তগত বস্তু ‘মাল’ হলে (অর্থাৎ বস্তুটি হস্তান্তর যোগ্য, মূল্যমান ও স্থানান্তর যোগ্য হলে), (৩) কারো দখলভুক্ত মাল হলে, (৪) সংরক্ষিত স্থান থেকে হস্তগত (বা চুরি) করলে, (৫) বস্তুটি (চোরের) নিজ দখলে নিলে, (৬) চুরির মাল নিসাব (বা দশ দিরহাম) পরিমাণ হলে, (৭) বস্তুটি স্থানান্তরিত করা হলে ও (৮) বস্তুটি অসৎ উদ্দেশ্যে হস্তগত ও স্থানান্তর করলে। এসব বিষয় আবার উপযুক্ত সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রমাণিত হতে হবে অথবা চোর স্বেচ্ছায় চুরি করার কথা স্বীকার করলে অথবা চুরির মালের দাবিদার চুরি যাওয়ার ব্যাপারে শপথ করলে তবেই চোরের ওপর হাত কাটার শাস্তি আরোপ করা যাবে। তার পরও আত্মীয়স্বজন, চাকর বা কর্মচারী, মেহমান চুরি করলে হদ্দ বা হাত কাটার আইন প্রযোজ্য হবে না। এ ক্ষেত্রে তাযির বা শরিয়তের আইনের পরিবর্তে প্রচলিত আইন অথবা সরকারের নিযুক্ত বিচারক বা প্রতিনিধির দ্বারা শাস্তি নির্ধারিত হবে।
দুনিয়ার শাসক, বিচারক আর জনগণকে অবশ্যই একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে, দুনিয়ার শাসক বা বিচারকগণ হচ্ছেন, বিশ^জাহানের স্রষ্টা, মানুষের সৃষ্টিকর্তা ও শেষ বিচার দিনের মালিক আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে প্রেরিত ও নির্বাচিত প্রতিনিধি বা ‘খলিফা’। আল্লাহ তায়ালা সূরা আল আ’রাফের ৫৪ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করছেন, সৃষ্টি যেহেতু তাঁর (আল্লাহ তায়ালার, সুতরাং হুকুমও চলবে একমাত্র তাঁরই, সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত দয়ালু ও বরকতময়। সূরা আর বাকারার ১০৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা রাসূল সা:-এর উদ্দেশে ঘোষণা করছেন, ‘হে নবী! আপনি কি জানেন না, আসমানসমূহ ও জমিনের সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্যই নির্দিষ্ট।’ সূরা আল মূলক-এর প্রথম আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করছেন, ‘সকল বরকতময় মহিমা সেই মহান সত্ত্বার জন্য রাজত্ব যার হাতের মুঠোয়, তিনি সকল জিনিসের ওপর একক ক্ষমতাবান।’ সূরা আল হাদিদের ৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করছেন, ‘আসমান ও জমিনের বাদশাহী তাঁরই (আল্লাহ তায়ালার), সকল ব্যাপারই তাঁর নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে।’ আল্লাহ তায়ালা সূরা আস সিজদাহর ৫ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করেন, ‘আকাশ থেকে জমিন পর্যন্ত সকল কিছুর ব্যবস্থাপনা-পরিচালনা একমাত্র তিনিই করেন।’ 
অতএব, আল্লাহ তায়ালার এই জমিনে আল্লাহর আইন ছাড়া মানব রচিত আইন দ্বারা রাষ্ট্র শাসন করা, বিচার করা এটা ইনসাফ, ন্যায়নীতি ও ইহসান পরিপন্থী। কারণ মানব রচিত কোনো আইনই কখনোই পক্ষপাতহীন হতে পারে না। যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তিনিই হতে পারেন একমাত্র পক্ষপাতহীন। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি কোনো বস্তু তৈরি করে তাহলে যে ব্যক্তি বস্তুটি তৈরি করেছেন তিনিই ভালো জানেন বস্তুটির ব্যবহার বিধি কি হওয়া উচিত বা কিভাবে ব্যবহার করলে সে বস্তুটির যথার্থ ব্যবহার হবে বা বস্তুটির উপযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। এই মর্মে প্রস্তুতকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠা সে বস্তুর প্রস্তুত প্রণালি ও ব্যবহার বিধি সংবলিত লিফলেট বা বুকলেট তৈরি করে বস্তুটির ব্যবহারকারীকে জানিয়ে দেয়া হয়। তদ্রুপ যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন (মহান আল্লাহ) তিনিই ভালো জানেন মানুষ কোন বিধি-বিধান মেনে চললে ইহসান আর ইনসাফ হবে, কিভাবে মানুষ তার দায়িত্ব পালন করবে, কিভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করবে, কিভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে। এ জন্য মানুষের স্রষ্টা (আল্লাহ তায়ালা) মানুষের জীবন বিধান সংবলিত মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাজিল করেছেন। আর আল কুরআনের বাস্তব অনুসারী বা জীবন্ত কুরআন ছিলেন সর্ব শেষ ও সর্ব শ্রেষ্ট নবী ও রাসূল মুহাম্মাদ সা:। তিনি যেভাবে আর যে আইনে রাষ্ট্র শাসন আর বিচার পরিচালনা করেছেন, ঈমানের দাবিদার প্রত্যেক মুসলমান শাসকের উচিত, রাসূল মুহাম্মাদ সা:-এর পথ অনুসরণ করা। যেমন করেছেন খোলাফায়ে রাশেদীনের চার খলিফা। 

Friday, February 10, 2017

আল কুরআনের সমাজ



বাংলাদেশের রাজনীতির কথা শুনলেই অনেকের মনে যেন একটা ঘৃণার ভাব ফুটে ওঠে। আবার অনেকে বলে ফেলে রাজনীতি কি ভালো মানুষের কাজ, রাজনীতিটিতি বুঝি না, রাজনীতি কি শান্তি দেবে, রাজনীতির ধারেকাছেও আমরা নেই। একটানা কথাগুলো বলে ফেলে।
দেশের বেশির ভাগ আলেম, ইমাম, মুহাদ্দিস, মুফতি, হাফেজ, কারি ও হাজী সাহেবদেরও ধারণা হয়ে গেছে যে, রাজনীতি করা খারাপ লোকদের কাজ। আমরা ভালো লোকগুলো ইবাদত-বন্দেগি করে যাবো।
এ ছাড়া আমাদের দেশের কিছু কিছু পত্রপত্রিকা, বামপন্থী রাজনৈতিক নেতানেত্রী এবং তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা বলে থাকেন, ধর্ম এবং রাজনীতি আলাদা ব্যাপার। ধর্মকে রাজনীতির সাথে জড়িত করা যাবে না। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা যাবে না।
অথচ আমাদের দেশে বোবা, পাগল, শিশু ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক যুবক ছাড়া আর সবাই প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে রাজনীতির সাথে জড়িত আছে। নির্বাচনের সময় যে দলকে ভোট দেয় সেই ব্যক্তি সেই দলের সাথে জড়িত আছে। এ সত্য কথাটি কেউই অস্বীকার করতে পারবে না।
যা হোক রাজনীতির ব্যাপারে মুসলমানদের মধ্যে নানা রকম ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি হওয়ার কারণে আজকাল আমাদের মুসলিম সমাজ বা দেশে ইসলামবিরোধী দলের নেতৃত্ব ও শাসন অহরহ চলছে। আর মুসলমানেরা সহজভাবে তাদের নেতৃত্ব ও শাসনকে মেনে নিচ্ছে। আমরা যারা বলি রাজনীতি ভালো মানুষের কাজ নয়। অথচ নির্বাচনের সময় ওই সব ভালো মানুষগুলো ইসলামবিরোধী দলের সাথে জড়িত হয়ে দেশ পরিচালনার জন্য এমন সব দলের নেতানেত্রী নির্বাচন করেন, যাদের দলের মূলনীতি হলো পুঁজিবাদ, জাতীয়তাবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ, সমাজতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্র কায়েম করা। এসব ইসলামবিরোধী দলের মতবাদ দ্বারা আমাদের মুসলিম বাংলাদেশ পরিচালিত হওয়ার কারণে দেশের সর্বক্ষেত্রে ইসলামকে ধ্বংস করার যে ভয়াবহ অবস্থা চলছে তা কি আমরা কখনো উপলব্ধি করার চেষ্টা করি?
সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম রাষ্ট্র সমাজের নেতৃত্ব ও শাসনক্ষমতা আমরা যাদের হাতে তুলে দিচ্ছি, তারাই ইসলামি শরিয়তের বিধিবিধানকে প্রত্যাখ্যান ও উপেক্ষা করে মুসলিমসমাজ বা দেশকে ইসলামবিরোধী সমাজ ও দেশে পরিণত করছে। আর আমরা মুসলিম হয়ে এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর উম্মত বা অনুসারী দল হয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছি। আমাদের দ্বারা কোনো প্রতিবাদ হচ্ছে না। আমরা সহজ সরলভাবে তাদের আনুগত্য করে যাচ্ছি। অথচ মহান আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদেরকে ইসলামবিরোধী নেতৃত্বের আনুগত্য করতে নিষেধ করেছেন।
এ বিষয়ে আল কুরআনের নিষেধাজ্ঞা : ‘তোমরা খোদায়ী বিধানের সীমালঙ্ঘনকারীদের আনুগত্য করো না, যারা (শিরক-কুফর ইত্যাদি) অনর্থের সৃষ্টি করে আর সংশোধনের ব্যবস্থা করে না।’ (সূরা-শু-আরা : ১৫১-১৫২)
এভাবে মুসলিমসমাজে ইসলামবিরোধী নেতৃত্ব ও শাসনকে হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে। ইসলামি নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা, আর ইসলামি নেতৃত্বের আনুগত্যের অপরিহার্যতা প্রমাণিত হয়েছে কুরআন-সুন্নাহর সরাসরি দলিল প্রমাণের ভিত্তিতে।
আল কুরআনের নির্দেশ হলো : ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ তায়ালার, রাসূলুল্লাহ সা:-এর, আর তোমাদের মধ্য থেকে শরিয়ত অনুযায়ী হুকুমাত পরিচালনার অধিকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের। তোমরা যদি কোনো বিষয়ে মতবিরোধে পতিত হও তবে তোমরা আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল সা:-এর তথা কুরআন ও সুন্নাহর মানদণ্ডে ওই বিষয়ের সঠিক ফয়সালা নির্ধারণ করো, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখ।’ (সূরা নিসা-৫৯)
রাসূল সা: বলেছেন : ‘স্রষ্টার নাফরমানি করে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না’।
হাদিসে আরো উল্লেখ আছে যে, ‘আল্লাহ ও রাসূলের নাফরমানির ক্ষেত্রে কোনো আনুগত্য নেই, আনুগত্য করতে হবে শুধুমাত্র মারুফ বা বৈধ ও সৎকাজে।’ (বুখারি ও মুসলিম)
ইসলামি নেতৃত্ব ছাড়া মুসলিমসমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামি শরিয়তের বিধিবিধানের প্রতিষ্ঠা করা কখনো সম্ভব নয়। এ জন্য কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক ইসলামি নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য নামাজ-রোজার মতো ফরজ।
ইসলামি রাজনীতির প্রথম ও প্রধান উৎস হচ্ছে আল কুরআন। দ্বিতীয় হচ্ছে রাসূল সা:-এর সঠিক সুন্নাহ বা পথ। রাসূল সা:-এর সঠিক সুন্নাহ বা পথ অনুসারে আল কুরআনের রাজনীতিতে এ দেশের বেশির ভাগ মুসলমান সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ না করার কারণে ইসলামবিরোধী নেতারা রাষ্ট্রের পরিচালক হয়ে ইসলামকে ধ্বংস করছে আর বলছে ইসলামের নামে রাজনীতি করা যাবে না। ইসলাম এবং রাজনীতি আলাদা ব্যাপার।
অথচ জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহ পাকের পরিপূর্ণ ইবাদতের দায়িত্ব পালনের জন্য ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করতেই হবে। এ দায়িত্ব এড়িয়ে চলা মুসলমানদের জন্য পরিষ্কার মুনাফেকি। শরিয়তের এমন অনেক আইন বিধিান রয়েছে, যা কার্যকর করতে হলে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। আমাদের স্মরণ রাখতে হবে যে, যে পর্যন্ত ইসলামি দলের মাধ্যমে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হবে, সে পর্যন্ত আমরা আল্লাহ পাকের কোনো ইবাদতই পরিপূর্ণভাবে আদায় করতে পারব না।
আল্লহ তায়ালা বলেন : ‘তারা এমন ব্যক্তি তাদেরকে যদি আমি পৃথিবীতে শাসনক্ষমতা দান করি তাহলে তারা নামাজ কায়েম করবে, জাকাত আদায় করবে, সৎ কাজের নির্দেশ দেবে এবং অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে লোকদেরকে বিরত রাখবে।’ (সূরা হজ-৪১)
আল্লাহ পাকের নির্দেশ হলো : ‘সাবধান মনে রেখ, সৃষ্টি তাঁরই বিধান ও তাঁরই চলবে।’ (সূরা আল আরাফ-৫৪)
সম্মানিত পাঠকরা আল কুরআন এসেছে মানবজাতির সম্মান এবং মর্যাদাকে বৃদ্ধি করে আল্লাহ পাকের সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করা। আল কুরআনের পরিপূর্ণ বিধানকে বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে মানুষ এ দুনিয়ায় পাবে শান্তি আর পরকালে পাবে আল্লাহ পাকের কঠিন আজাব থেকে মুক্তি।
আমাদের দেশে প্রায় তিন লাখের বেশি মসজিদ আছে। মসজিদের সম্মানিত ইমামরা জুমায় এবং অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোয় মক্কায় নাজিলকৃত আয়াতগুলোর ওপর আলোচনা করে থাকেন। কিন্তু মদিনায় নাজিলকৃত ছয় হাজারেরও বেশি আয়াতের ওপর আলোচনা হচ্ছে না। যার কারণে আমাদের দেশের সাধারণ বা অল্প শিক্ষিত লোকেরা এবং অন্যান্য বিষয়ে উচ্চশিক্ষিতরা ইসলামি রাজনীতি, ইসলামি রাষ্ট্র, ইসলামি আইনকানুন, ইসলামি অর্থনীতি, ইসলামি সমাজ ইত্যাদি কী এবং কেন প্রয়োজন তার ব্যাপারে তারা কোনো সঠিক ধারণাও পাচ্ছে না। এমনকি নামাজ-রোজা ব্যতীত অন্য কিছু করাকেও ইবাদত মনে করে না। ধর্মীয় জ্ঞান কম থাকার কারণে ইমাম সাহেবেরা যা বলেন, তাই তারা বিশ্বাস করেন।
অথচ আল্লাহতায়ালা বলেন : ‘তাহলে কি তোমরা কিতাবের একটি অংশের ওপর ঈমান আনছো এবং অন্য অংশের সাথে কুফরি করছো? তারপর তোমাদের মধ্য থেকে যারাই এমনটি করবে তাদের শাস্তি এ ছাড়া আর কি হতে পারে যে, দুনিয়ার জীবনে অপমান, অপদস্ত, লাঞ্ছিত ও পর্যুদস্ত হবে এবং আখেরাতে তাদেরকে কঠিনতম শাস্তির দিকে নিক্ষেপ করা হবে। তোমাদের কর্মকাণ্ড থেকে আল্লাহ বেখবর নন।’ (সূরা বাকারা-৮৫)
কুরআন-হাদিসের জ্ঞান অর্জনকারীরা ইসলামবিরোধীদের ভয়ে বা অন্য কোনো কারণে কুরআনের মদিনায় নাজিলকৃত আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ না করে যদি গোপন করা হয়, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাদের ব্যাপারে বলেন : ‘যারা আমার অবতীর্ণ উজ্জ্বল শিক্ষাবলি ও বিধানগুলো গোপন করে, অথচ সমগ্র মানবতাকে পথের সন্ধান দেয়ার জন্য আমি সেগুলো আমার কিতাবে বর্ণনা করে দিয়েছি, নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো, আল্লাহ তাদের ওপর অভিশাপ বর্ষণ করেন এবং সব অভিশাপ বর্ষণকারীরাও তাদের ওপর অভিশাপ বর্ষণ করে।’ (সূরা বাকারা-১৫৯)
অথচ আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবীকে বলেন : ‘আর হে নবী, যারা এ কিতাবের ওপর ঈমান আনবে এবং (এর বিধান অনুযায়ী) নিজেদের কার্যাবলি পরিচালিত করবে তাদেরকে এ মর্মে সুখবর দাও যে, তাদের জন্য এমন সব বাগান বা জান্নাত আছে যার নিম্নদেশ দিয়ে প্রবাহিত হবে ঝরনাধারা।’ (সূরা বাকারা-২৫)
সুতরাং এ দুনিয়ায় শান্তি এবং পরকালে আল্লাহ তায়ালার কঠিন আজাব থেকে বাঁচতে হলে কুরআনের আইনের বিকল্প আর কিছুই নেই। যারা নিজেদের ধনসম্পদ এবং জান-প্রাণ দিয়ে কুরআনের আইনকে জমিনে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কঠোর চেষ্টা সাধনা করেন, তাদেরকে কুরআনের অনেক সূরাতে আল্লাহ পাকের সাহায্যকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সূরা আল হাশরের ৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ পাক তাদের ব্যাপারে বলেন : ‘এসব লোক চায় আল্লাহর মেহেরবাণী এবং সন্তুষ্টি। আর এরা প্রস্তুত থাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য। এরাই হলো সত্যবাদী ও ন্যায়পরায়ণ লোক।’
মুসলিম দেশে মুসলিম যুবতী মেয়েদেরকে দিয়ে করানো হচ্ছে পণ্যদ্রব্যের প্রচার। বেশির ভাগ পণ্য-দ্রব্যের লেবেল বা প্যাকেটে যুবতী মেয়েদের ছবি। রাস্তাঘাটের বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থানে যুবতী মেয়েদের বড় বড় ছবি দিয়ে পণ্যদ্রব্যের প্রদর্শনী দেখানো হচ্ছে। এ ছাড়া টিভিতে কিভাবে ছেলেমেয়েদের দিয়ে একত্রে পণ্যদ্রব্যের প্রচার করা হচ্ছে, তা সবার জানা। এখন আবার নতুনভাবে চলছে বড় বড় শহরগুলোয় বড় বড় বিল বোর্ড স্থাপন করে মেয়েদেরকে দিয়ে পণ্যদ্রব্যের প্রচার।
বাংলাদেশের প্রতিটি ছোট বড় শহরের কাপড়ের দোকানগুলোয় যুবতী মেয়েদের এবং পুরুষদের মূর্তি বানিয়ে সুন্দর সুন্দর সাজে সাজিয়ে রেখেছে। অনেক মুসলমানদের ঘরে ছোট ছোট মূর্তি দিয়ে শোকেস সাজিয়ে রেখেছে। আমাদের দেশটি যেন মূর্তির দেশ এবং যুবতী মেয়েদের প্রদর্শনীর দেশে পরিণত হয়েছে।
আমাদের মুসলমানদের দাবি হলো, আমরাই সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল সা:-এর সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত বা অনুসারী দল। আরো দাবি হলো আমরা হজরত ইব্রাহীম আ:-এর মিল্লাতের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অথচ হজরত ইব্রাহীম আ:-এর মিল্লাত ছিল মূর্তি ভাঙা। যার কারণে তাকে নমরুদের কঠিন আগুনের পরীক্ষায় যেতে হয়েছে। রাসূল সা:-এর মক্কা বিজয়ের পর তিনি নিজ হাতে কাবাঘরের মধ্যে রাখা ৩৬০টি মূর্তি ভেঙে মুসলমানদেরকে শিরকমুক্ত করলেন। এখন আমরা মুসলমানরাই আবার শিরকের মধ্যে নিমজ্জিত হলাম।
সম্মানিত পাঠক, আল কুরআনের আইনকে বাদ দিয়ে মানবরচিত আইন দ্বারা যত দিন দেশ পরিচালিত হবে, তত দিন পর্যন্ত যেকোনো প্রকারের জুলুম, নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, শিরক, বিদায়াত ইত্যাদি বন্ধ হবে না। আল কুরআনের আইনই ইহকালীন শান্তি এবং পরকালে কঠিন আজাব থেকে মুক্তির একমাত্র গ্যারান্টি।

মো: শামসুল হুদা
লেখক : প্রবন্ধকার