ইসলাম মানা কোনো ভাই যখনই নারীদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের আলাপ তুলেন কিংবা খিয়ানকারী কোনো জালিম নারীর খিয়ানত নিয়ে আলোচনা করেন, তখনই কিছু ইসলামিস্ট নারীবাদী চটপট করে তপড়াইতে থাকেন, নিজেদের কল্পিত ভিক্টিম সাজান, নারীদের সম্পর্কিত আয়াত সমুহের আজিব সব ব্যাখা নিয়ে হাজির হয়ে যায়, তাতেও না পারলে ন্যাকামো কান্না, গালিগালাজের কামান ছুঁড়তে থাকেন। ভাব এমন যে, নারী জাতী নিয়ে আলাপ তোলা ভাইটি নরহত্যার চাইতেও বড় অপরাধ করে ফেলেছে, তাকে পরাস্ত করতে পারা মানেই নারীবাদের জয়।
অথচ খবর নিলে দেখবেন আপনাদের বানানো পুরুষবাদী ভাইটির ঘরে থাকা আপনার বোনটি সেক্যুলার ফ্যামিলিতে সংসার করা বোনটির চাইতেও কতো বেশি অধিকার নিয়ে শান্তিতে আছে। তাছাড়া ইসলামিক লোকটির সাথে পূর্ণ ও যথাযথ অধিকার নিয়ে শান্তিতে থাকারই তো কথা।
আপনাদের বুঝা উচিত, যে লোকটি ইসলামিক, সে আল্লাহর পাকড়াওকে ভয় করে, সে জানে নারীকে সন্মান করতে হয়, ভালোবাসতে হয়, ছাড় দিতে হয়, ভুল হলে ক্ষমা করে দিতে হয়, তাদের হকের ব্যাপারে সজাগ ও সচেতন থাকতে হয়, তারা জানে তাদের নবী সাঃ নারীদের প্রতি সহনশীল ও রহমদিল ছিলেন, তাদের বোঝা হালকা করে দিতেন, গৃহস্থালি কাজেকর্মে সহযোগিতা করে তাদের প্রতি ইহসান করতেন, তারা নারীদের আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ আমানত ও নিয়ামত মনে করেন, তারা জানে আল্লাহ নারীদের ব্যাপারে তাকে ভয় করতে বলেছেন, লিবাস যেমন সন্মান ও আভিজাত্যের প্রতিক, আল্লাহ্ তেমনি নারীকে লিবাস বা পোশাকের সাথে তুলনা করে বুঝিয়েছেন, নারীরাও তোমাদের সন্মান ও আবিজাত্যের প্রতীক[هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ], সর্বপরি একজন ইসলামিক ভাই জানে, নারীদের প্রতি কোনোরূপ জুলুম বা অসন্মান করলে আল্লাহর কাছ থেকে পার পাওয়া যাবেনা।
একজন মানুষকে পুরুষবাদী বানিয়ে শত্রুশিবিরে ঢুকিয়ে দেয়া নারী জাতির কল্যাণ চাওয়া কোনো নারীর কাজ হতে পারেনা। একজন নারীবাদী পুরুষ বানানোর চাইতে কাউকে নারীবিদ্বেষী বানানো বেশি ক্ষতিকর।
নারীর মুক্তি ও অধিকার চাইলে ভুল জায়গায় মেধা ও শ্রম ইনভেস্ট না করে, তাদের পিছনে করুন যারা নারীদের আল্লাহর দেয়া অধিকার সম্পর্কে জানেনা, যারা নারীদের ভোগপণ্য বানিয়েছে, তাদের পিছনে ইনভেস্ট করুন যারা আল্লাহর আজাব গজব সম্পর্কে জানেনা কিংবা বিশ্বাস করেনা, তাদেরকে আল্লাহর ভয় দেখান, ইসলাম নারীদের ব্যাপারে কী বলে তা জানিয়ে দিন বুঝিয়ে দিন।
মেধা ও শ্রম যথাযথ জায়গায় ইনভেস্ট করুন। না হয় ভুলভাল রাগ-ক্ষোভের বশবর্তী হলে লাভ তো দূরে থাক মূলধনও হারানো লাগতে পারে।
মুক্তির জন্য বন্ধু শত্রু নির্ণয় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে শুধু শুধু বন্ধুকে শত্রু বানিয়ে ক্ষোভ মেটানো সম্ভব কিন্তু যাতনা থেকে মুক্তি মেলা সম্ভব না।
কোনোকালে কেউ আল্লাহর দেওয়া অধিকারে সীমা লঙ্ঘন করে কেউ শান্তিও আনতে পারেনি, কাউকে মুক্তির স্বাদও অস্বাদন করাতে পারেনি।
আপনি ইসলামের নামে নারীবাদের চর্চা করে পুরুষদের প্রতি অন্যবোনদের কলিজায় ঘৃণার বীজ বপন করে চলেছেন অবিরাম, পুরুষদের ইসলামিক নারীদের প্রতি বিরুপ ধারণা করতে বাধ্য করে আলটিমেটলি বোনদের উপর জুলমই করে চলেছেন, অথচ ভাব ধরছেন আপনি বোনদের কল্যাণকামী।
এসব অসুস্থ মিলিট্যান্ট নারীবাদীদের বিরুদ্ধে আমাদের ইসলামিক বোনদের এগিয়ে আসতে হবে, নারীবাদীদের ব্রেইন থেকে নারীবাদের বিষ রক্ত বের করতেই হবে[ তা বুঝিয়ে-সুঝিয়ে বা কঠোরতা প্রদর্শন করে], নইলে এরা যে পরিমাণ তিক্ততা আর বিষবাস্প ছড়াচ্ছে তাতে আগামীতে কেউ ইসলামিস্ট বোনদের জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিতে দুঃসাহস দেখাবেনা।
মনে রাখবেন, তারা তাদের পরিবারে এসব ঘৃণ্য নারীবাদ চর্চা করেনা। কিন্তু এরা আপনার মাথায় নারীবাদের বিষ ঢুকিয়ে আপনার জীবনকে [ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়] জাহান্নাম বানিয়ে দিতে চায়।
সুতরাং এদেরকে কল্যাণকামী ভাবার মতো ভুল করা ঠিক হবেনা। এদের থেকে আপনার মা-বোনদের দূরে রাখুন।
Akhter Tumpa, Ali Ahmad Mabrur and 62 others
