এই থিউরি ওরিয়েন্টালিস্ট ও ইসলামের শত্রুদের বানানো সর্বৈব মিথ্যা।
এবং এই ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা থিউরিটি প্রচারের দায়িত্ব নিয়েছিলো সেক্যুলার ও হীনমন্য শিক্ষিত ইসলামিস্টরা (এরা পশ্চিমা কাফিরদের অতি মহান, অতি সভ্য ধরেই চিন্তা করতে শিখেছে)।
এই অতি ইসলাম দরদী কেউ যখন আমার সামনে এই থিউরি আওড়াইতো, তখন আমি ধরেই নিতাম এই লোক ইসলাম ও ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ কিংব তার চিন্তারা পশ্চিমা শেইপে আবদ্ধ।
এই লোকগুলো জানেনা, মুসলিম নয় কোনো অমুসলিম সভ্যতারও পতন জ্ঞানবিজ্ঞানে পিছিয়ে পড়ার কারণে হয়নি, আবার জ্ঞানবিজ্ঞান দিয়েও কেউ কোনো সভ্যতার মালিক হয়নি।
মুসলমানেরা যখন বিজয়ের শীর্ষে তথা একের পর এক জালিম ভূমির পতন করে ইসলামের পতাকা ওড়াচ্ছে তখন তাদের কাছে ইসলামের জ্ঞান ছাড়া তথাকথিত জ্ঞানবিজ্ঞানের তেমন কিছুই ছিলোনা, কিন্তু যাদের থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিচ্ছিলো তখন তাদের জ্ঞানবিজ্ঞানের ভান্ডার ছিলো সমৃদ্ধির শিখরে (তবু তারা মুসলমানদের আক্রমণ থেকে জুলমাতে ঘেরা সাম্রাজ্য টেকাতে পারেনি)।
আবার দেখেন, মুসলমানেরা যখন জ্ঞানবিজ্ঞানের শীর্ষে তখনই তাদের উপর পতন, লাঞ্চনা এবং বেইজ্জতিরা চারদিক থেকে হামলে পড়েছিলো।
মুসলিম সভ্যতার কেন্দ্রভূমি ও জ্ঞানচর্চার রাজধানী বাগদাদের কথা চিন্তা করুন, গোবীর মরু থেকে উঠে আসা জ্ঞানবিজ্ঞান ও সভ্যতার আলোর কোনো স্পর্শ না পাওয়া হালাকু খানের হাতে কীভাবে পতন হতে হলো। সমরকন্দ বুখারার কথা নাইবা বললাম।
[আবার এমনটিও বলছিনা 'জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চায় এগিয়ে থাকায় পতন হয়েছে' ]
তাহলে, ইসলামের শত্রুরা আমাদেরকে এই মিথ্যে ও বাস্তবতা বিবর্জিত পঁচা থিউরি কেনো গেলাতে চাচ্ছে?
কারণ খুব সোজা, মুসলমানেরা এই থিউরি যতদিন গিলে থাকবে ততদিন মুসলমানেরা তাদের ক্ষমতার জন্য থ্রেট হিসেবে থাকবেনা।
জিহাদের পথে থেকে মৃত্যুকে তুচ্ছজ্ঞান করে, শাহাদাতের তামান্না নিয়ে দুনিয়ার উপর পরকালকে প্রাধান্য দিয়ে মুসলমানেরা সংঘবদ্ধভাবে এগিয়ে গেলে তাদের হারানো গৌরব ও ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে পারে। এতে পশ্চিমারা ক্ষমতা হারাতে হতে পারে, সেজন্য মুসলমানদেরকে পশ্চিমাদের তৈরি তথাকথিত জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চা আর বড়ো বড়ো ডিগ্রি অর্জনের জাগতিক প্রতিযোগিতার সুযোগ করে দিয়ে সেদিকে ব্যস্ত করে দিচ্ছে, যেনো মুসলমানেরা জিহাদের কঠিন পথে ফিরে এসে পশ্চিমা কাফিরদের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করতে না পারে।
একথা প্রায় সকলেই জানি,
মুসলিম জাতী তার ক্ষমতা, ইজ্জত, আজাদী এসব হারিয়েছে ঈমান ইসলামের পথ থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে।
আবার হারানো ক্ষমতা ফিরে পেতে হলে তাদেরকে সেই ঈমান ইসলাম ও জিহাদের কঠিন পথেই ফিরে যেতে হবে। অর্থাৎ যেপথ ভুলে ক্ষমতা হারিয়েছেন আবার সেই পথেই ফিরে এসে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে হবে।
অন্যথায় কাফিরদের গোলামী করে এবং অন্যদের সেই গোলামীর দিকে আহবান করতে করতেই জীবনের ওয়াক্ত খতম করে দেওয়া লাগবে।
এই জ্ঞানবিজ্ঞান নামক বস্তুবাদের গোলামীর দিকে যখন কোনো ইসলামিস্ট আহবান করে তখন তাকে ঘৃণা করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকেনা।
এরা পশ্চিমা কাফিরদের থেকে জ্ঞানবিজ্ঞান শিখে বড় বড় সনদ অর্জন করে, এবং অবশেষে সেই অর্জিত জ্ঞানবিদ্যা কাফিরদের খিদমতে কাজে লাগিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জীবন পার করে দেয়।
এবং এরাই জায়গা বেজায়গায় গিয়ে চ্যাঁচ্যাঁতে চ্যাঁচ্যাঁতে বলে, "মুসলমানেরা জ্ঞানবিজ্ঞানে পিছিয়ে যাওয়ার কারণে, তাদের পতন হলো"
এরাই আপনাকে আমাকে 'গোলামীকে আজাদী' বলে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।
এই যারা একমুখে ইসলামের কথা বলে, অন্যদিকে ইসলামহীন শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষা লাভের জন্য দৌড়ঝাঁপ দেয়, এদেরকে মাওলানা মওদূদী হিপোক্রেট বলে আখ্যায়িত করেছেন।
বুঝা উচিত, একেকজনের ক্ষমতা আহরণের সিঁড়ি একেকটা। সেই সিঁড়ি কারো জন্য ঈমান ও জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ, আবার কারো জন্য শঠতা সহ ইসলাম নিষিদ্ধ ভিন্নকিছু....
View 2 more replies
