ট্রাম্পঃ আমেরিকার সহযোগিতা ছাড়া সৌদি দুই সপ্তাহও টিকবে না
সালমানঃ শায়েখ ট্রাম্প এইডা আপ্নে কোনো কাম করলেন! এইভাবে দুনিয়ার সামনে অপমান না করে হোয়াইট হাউজে নিয়া জুব্বা জুব্বা খুইল্যা আচ্ছামত পেটাতেন তাও ভালো ছিলো।
আরে আমাদের বিশ্বাস তো আপনাদের রুবুবিয়াতের হাত উঠিয়ে নিলে আমরা দুই সপ্তাহ কেন দুই দিন না দুই ঘণ্টাও টিকবো না।
হুজুর, সেটাও না, আসল কথা হইলো আমরা তো এখানে শুধুমাত্র আপনাদের খিলাফতের প্রতিনিধি।
ট্রাম্পঃ তুমি ঠিক কইছো কিন্তু মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেওন লাগে নইলে ভুলে যায়। দেখো না তোমাদের আলেমেরা বারবার ওয়াজ করে আল্লাহ্ পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
সালামানঃ দেখুন হুজুর! আপনাদের কোন এজেন্ডা আগ বাড়িয়ে বাস্তবায়ন করিনি! আপ্নেরা ইরানীদের বিরুদ্ধে নানাবিধ হুমকি-ধমকি অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়েও যতটা না অসুবিধায় ফেলতে পেরেছেন, তার চাইতে বেশি কোণঠাসা হয়ে যায় আমাদের ভাড়া করা শায়েখদের ফতোয়ার তীর বর্ষণ আর প্রোপাগান্ডায়।
ট্রাম্পঃ তা তুমি ঠিক কইছো । আমি নিজে সাক্ষী। অনেক মুসলিমকে দেখেছি, যারা ইরানিদের মুসলিমই মনে করে না। হুম। আমি খুশি, তুমি শায়েখদের আমার পক্ষ থেকে কিছু ভাতা দিও।
সালমানঃ আরে আমার পুতকে তো আপনার চোখেই পড়লো না। দেখলেন না 'ও' ফতোয়া দিলো, পাকিস্তানে কোনো আসল মুসলমানই নেই।
ট্রাম্পঃ হাহাহা! হুম ভাতিজার পুতরে এজন্যেই এতো আপন মনে হয় । কিন্তু ভয়ও লাগে,
যখন দেখি ওর সাথে সাদ্দাম হোসেনের সাথে মিলে যায়। একসময় সাদ্দামও আমাদের অনেক এজেন্ডা উৎসাহের সাথে সম্পন্ন করেছে কিন্তু আখের তো সবারই জানা।

সালমানঃ শায়েখ এবার কিন্তু মেলানিয়া ভাবিকে নিয়ে ইয়ামেনে আসবেন, সেখানে লক্ষ লক্ষ বনি আদমের কলিজা থেকে কলকল করে বয়ে যাওয়া খুনে মরুভূমির বুকে এক রক্ত দরিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, নিহত নারী-শিশুদের হাড়ের স্তূপে তৈরি হয়েছে পাহাড়। মন চায় তো হাড় পাহাড় থেকেও দূর্ভিক্ষ পীড়িত হাড্ডিসার শিশুদের আত্মচিৎকার ইনজয় করতে পারবেন। আবার চাইলে প্রমোদ তরীতে করে ঘুরেঘুরে রক্তের ঘ্রাণও শুকতে পারবেন।
তবে ইভাঙ্কা ভাতিজির থেকে শুনছি আপনি নাকি সাঁতারে অতো পারদর্শী নন, তাই লাইফ জ্যাকেটটাও সাথে রাইখ্যেন, কখন আবার অভিশাপ ঝড়ের কবলে পড়ে যদি রক্ত দরিয়ায় ডুইব্যা যান তার তো ঠিক নাই !
ট্রাম্পঃ এইডা কী কইল্যা! তোমার ভাড়াটে শায়েখদের কাম কী তাহলে? ওদের ঝাড়-ফুঁতেও কাম হবে না? বুইজ্জালাইছি তুমি মিয়া নিজেও ওদের বিশ্বাস করো না...
সালমানঃ এই যে দেখেন, মিশরে হাজার বছর পর জনগণের স্বতঃস্ফুর্ত সমর্থনে ইখওয়ান ক্ষমতায় আসে কিন্তু আপ্নেরা ও ইসরাইল চিন্তা করার আগেই মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করে মুরসিকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে ইহুদিপুত্র সিসিকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেই। ফলে ওদের ইসলাম কায়েমের স্বপ্নও মুছে দেই।
সাথে সাথে আমাদের দরবারের আলেম ও কা'বার ইমামরাও বসে থাকেনি তারাও নিরলসভাবে ইখওয়ানের নেতা-কর্মীদের বুকে ফতোয়ার কামান দাগিয়েছে। এই বলে যে, "ইখওয়ানের আকিদা খারাপ, ইখওয়ান খারেজী, ইখওয়ান সন্ত্রাস,কাফের, শিয়া " আরো আরো...
হুজুর আপনি যদি দেখতেন রাবেয়া স্কয়ারে হাফেজা আসমা বেলতাগী, হাবিবা, ও মুরশিদুল আমের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার আম্মারসহ হাজার হাজার ব্রাদারহুড নেতা-কর্মীদের রক্তে নীল দরিয়ার পানি লাল হয়ে গেছে। কত মায়েদের বুক খালি করেছি, কত সন্তানকে এতিম করেছি, কত স্ত্রীদের বিধবা করেছি তার ইয়ত্তা নেই।
এতকিছুর পরেও কি নেক নজর দিয়ে তাকাবেন না হুজুর !
- দেখলেন তো কয়েকদিন আগে কাতারকে দিলাম অবরোধ। তাদের পশুদেরকেও আমাদের চারণভূমি থেকে বের করে দিলাম। অবরোধের কারণে কাতারকে লোকসান গুণতে হচ্ছে লাখ লাখ ডলার।
-লেবাননের হারিরিকে দিয়ে চেয়েছিলা গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়ে দিয়ে, ইসরাইলের চিরশত্রু হিজবুল্লাহকে শেষ করে দিতে। কিন্তু এই যাত্রায় পোলাডা [ মুহাম্মদ বিন সালমান] সফল হয়নি।
ট্রাম্পঃ হুম আমি বেশ খুশি। তবে সৌদিতে প্রচুর সিনেমা হল বানাতে হবে। প্রয়োজনে মুফতিদের দিয়ে সিনেমার পক্ষে ফাতওয়া দিতে হবে। আর যে বিচ প্রস্তুত হচ্ছে তাতে যেন বিকিনি পরেও অবকাশযাপন করা যায় সেটা নিশ্চিত করবা। তাছাড়া যুবকদের তো একটু আধটু আনন্দ ফুর্তি করতে হবে তাইনা!
সালমানঃ আচ্ছা হুজুর, আগের মতই আপনার প্রতিটা এজেন্ডা হুকুম অক্ষরে অক্ষরে তামিল হবে। তবে মেলেনিয়া ভাবীরে আমার সালাম দিতে ভুইল্যেন না।
ট্রাম্পঃ এরোই বুড়ো বয়সেও(!!)
